ঢাকা–৯ আসনে হামলায় ছাত্রদল–স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতা আহত।

 

বিশেষ প্রতিনিধি : মাহবুব রহমান ( সাগর)

রাজধানীর ঢাকা–৯ আসনের মুগদা থানাধীন এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতা আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের রাজধানীর মুগদা ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন—৭১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফয়সাল আহমেদ মিলন , মুগদা থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবু এবং একই ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মো. সোহেল।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁদের এলোপাতাড়ি আঘাত করে বলে অভিযোগ করেছেন আহত নেতারা। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত মুগদা ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আহত নেতারা অভিযোগ করেন, এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা–কর্মী যৌথভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। হামলার সময় তাঁরা জীবন বাঁচাতে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় শাহ নেয়াজ ইমন (সুমন), মুন্না (২৬), তুষার (২৭), হিমেল (২৮), ইমন (২৫), বাপ্পি (৩০) ও জহিরুল (২৫)–এর নাম উল্লেখ করে সবুজবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সবুজবাগ থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, হামলার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুগদা থানা ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তাঁরা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এ ধরনের সহিংস হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *