অপরাধ সময় ঃ-
জাহিদুল আলম
শিক্ষা, সততা ও পরিকল্পিত উদ্যোগের সমন্বয়ে একটি অঞ্চলের বাস্তব উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব—তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আয়মান রাহাত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়–এর অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণি অর্জনকারী এই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের সময় দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা অর্জন করেছেন। স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বরিশাল অঞ্চলে বিভিন্ন অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সমন্বয় করেন, যার সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে চার ধাপে প্রায় ১২৬টি মসজিদে দুই কোটিরও বেশি টাকার অনুদান ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। পাশাপাশি ঈদগাহ, মাদ্রাসা ও গণকবরস্থান সংস্কারেও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো ব্যবহারে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সড়ক ও সেতু অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে পরিবহন ব্যয় কমেছে এবং বাজারসংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
নিরাপদ পানি ও জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ
মুলাদী এলাকায় ২.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাম্প হাউস নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ পরিবারকে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমেছে এবং জনস্বাস্থ্যের মান উন্নত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিমত।
ক্রীড়াঙ্গনে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ
তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও মাদকবিরোধী সামাজিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বৃহৎ ক্রীড়া অবকাঠামো কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে
৩০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ সংস্কার
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, এতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় মুলাদী, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১,০৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে স্থানীয় প্রয়োজনভিত্তিক ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
নদীভাঙন প্রতিরোধে উদ্যোগ
নদীবেষ্টিত অঞ্চলের স্থায়ী সমস্যার সমাধানে রামারপোল লঞ্চঘাট ও আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় প্রায় ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাট করা হয়। আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর তীররক্ষা উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করেছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া—এই চার খাতে সমন্বিত উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে। বরিশাল অঞ্চলে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্প স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “প্রকল্প শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে কাজে লাগছে”—এটাই এখন সবচেয়ে বড় পরিবর্তন