অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাত্র ছয় ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় বাজুস। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিকেল ৪টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। একই দিনে সকালে এক দফা দাম বাড়ানোর পর আবারও এমন সিদ্ধান্ত আসায় বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের, অর্থাৎ পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নেয় বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে।
নতুন দামে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।
এর আগে একই দিন সকালে বাজুস ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই দাম কার্যকর হয়েছিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বড় অঙ্কের এই মূল্যবৃদ্ধি স্বর্ণের বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
চলতি বছর এ নিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ২৪ বার সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ১৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৮ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি এবার রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৬ হাজার ২৪০ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা।
চলতি বছরে রুপার দামে এ নিয়ে ১৬ দফা সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ১০ দফা দাম বেড়েছে এবং ৬ দফা কমানো হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এমন ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।