শিরোনাম
মোহাম্মদপুর–আদাবরে অপরাধের রমরমা বাণিজ্য: আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিকতা ও মাদকের বিস্তার
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ঢাকার মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকা যেন ধীরে ধীরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক মহলের অভিযোগ, একাধিক আবাসিক হোটেলের আড়ালে প্রকাশ্যেই চলছে অনৈতিক কার্যক্রম ও মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যবসা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সব কর্মকাণ্ডে স্কুল–কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনের পর দিন এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বরং অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং আদাবর এলাকায় গড়ে উঠছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র।
সামাজিক মহল সতর্ক করে বলছে, অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর আদাবর থানা এলাকা মাদকের আখড়া ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে। এতে শুধু সামাজিক অবক্ষয় নয়, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎও ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার এই ব্যবধান নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশ বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই প্রস্তুতির বাস্তব প্রয়োগ কোথায়? তারা অবিলম্বে অবৈধ আবাসিক হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান, মাদকচক্র শনাক্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সামাজিক মহলের স্পষ্ট ভাষায় দাবি, প্রশাসন যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে আদাবর এলাকা খুব শিগগিরই অপরাধ ও মাদকের ভয়াল থাবায় সম্পূর্ণভাবে আক্রান্ত হবে। সময় থাকতেই দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।