অপরাধ সময় ঃ-
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর মুগদা-মান্ডা এলাকায় রাজউক অনুমোদিত প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত চলমান খাল দখল করে প্রকাশ্যে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে থাকা খালটি ছিল এলাকার প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেখানে একটি ছোট সাঁকো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ চলাচল করত।
অভিযোগ অনুযায়ী, খালটি পরিকল্পিতভাবে ভরাট করে এখন স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে খালের স্থানে ময়লার স্তূপ জমছে, সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা ও তীব্র দুর্গন্ধ। এলাকাবাসীর আশঙ্কা—বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পারে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, খালের ব্রিজসংলগ্ন স্থানে টাঙানো ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ম্যাপ পর্যন্ত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কার নির্দেশে এই ম্যাপ সরানো হলো? প্রমাণ আড়াল করতেই কি এই পদক্ষেপ? যদি কাজটি বৈধ হয়, তবে পরিকল্পনার নকশা সরানোর প্রয়োজন কেন?
এলাকাবাসী বলছেন, এটি শুধু একটি খাল দখলের ঘটনা নয়—এটি পরিবেশ ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ। নগর পরিকল্পনা আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে যদি কোনো প্রভাবশালী মহল খাল ভরাট করে, তবে তা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
মুগদা-মান্ডাবাসী অবিলম্বে খাল সম্পূর্ণ উদ্ধার, অবৈধ নির্মাণ বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।