স্টাফ রিপোর্টার: সজীব
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা কেটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অনুসন্ধানে অংশ নেন দৈনিক অপরাধসমূহ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম সাহাবুল ইসলাম সুমন, STV-এর সিনিয়র রিপোর্টার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাগর খান, দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন এবং রাজধানী টিভির স্টাফ রিপোর্টার সজীব আহমেদ।
অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকদের দাবি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর রাস্তা কেটে প্রায় ৪০০ ফুট এলাকাজুড়ে তিন ইঞ্চি পাইপ বসানোর কাজ চলছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের বাড়ির মালিক পরিচয় দিলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় একজন সাংবাদিকের ক্যামেরায় হাত দিয়ে ফুটেজ ধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে কয়েকজন নিজেদের সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও তারা কোনো বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সেখানে গেট বন্ধ থাকায় পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। এ সময় গেটের ভেতর থেকে বের হয়ে আসা এক ব্যক্তি উপস্থিত সাব-ইন্সপেক্টরকে জানান, “এ বিষয়ে থানার ওসি অবগত আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।”
পরে সংশ্লিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টর থানার ওসির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের দাবি, ফোনালাপ শেষে পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা আর কী করতে পারি।” এরপর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর কর্মকর্তা মুশফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন ও যাত্রাবাড়ী থানা-কে টাকা দিয়ে কাজের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের ভাষ্য, “এভাবে যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় হয় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক নীরবতা থাকে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস লাইন স্থাপন করা হবে।”
এছাড়া বিবির বাগিচা ও সমাজকল্যাণ এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন