সবুজবাগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে ‘ভুঁইফোড়’ অনুপ্রবেশের অভিযোগ: আলেয়া বেগমকে ঘিরে তৃণমূলের ক্ষোভ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
    দলের সুসময়কে পুঁজি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে ‘সুবিধাবাদী’ ও অনুপ্রবেশকারী চক্রের তৎপরতা বেড়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলে এক নারী নেত্রীকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
    তৃণমূলের অভিযোগ, আলেয়া বেগম নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর হঠাৎ করেই দল পরিবর্তন করে বিএনপির পদ-পদবি বাগানোর চেষ্টা করছেন।
    আওয়ামী পরিবার থেকে বিএনপিতে ‘ভোলবদল’
    লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনসার আলী ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ যুবলীগ ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও তারা আওয়ামী লীগের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
    অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের আভাস পেয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারা বিএনপির বিভিন্ন নেত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার শুরু করেন, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
    ‘গার্মেন্টস ব্যবসা’ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
    তৃণমূলের নেত্রীদের বিভ্রান্ত করতে আলেয়া বেগম নিজেকে বড় শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নন্দীপাড়া এলাকায় তার মালিকানাধীন একটি গার্মেন্টসে প্রায় ১৫০০ নারী শ্রমিক কাজ করেন।
    তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমন কোনো গার্মেন্টসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন মার্কেট থেকে পুঁতির কাজ এনে তা ঘরে বসে নারী ও শিশুদের দিয়ে করিয়ে নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
    তৃণমূলের প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি
    এই পরিস্থিতিতে দলকে ‘অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীদের’ হাত থেকে রক্ষা করতে ইতোমধ্যে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
    তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—
    দীর্ঘদিন অন্য দলে সুবিধা ভোগ করে এখন হঠাৎ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
    ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের ত্যাগী নেতাকর্মীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
    এ ধরনের ‘ভুঁইফোড়’ ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রাজপথে পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *